জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ
প্রকাশিত: ২৯/০৯/২০২৬ ৮:২৯ এএম

টেকনাফসহ জেলার সবখানে ফলের অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফল বিক্রেতাদের মতে আগামীতে দাম আরো বাড়বে পারে। ফলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। এদিকে ভিটামিনের চাহিদা পুরণে কৃষিবিদরা বিদেশী ফল বর্জন করে দেশীয় ফল চাষাবাদের পরামর্শ দিয়েছেন।
জানাগেছে, ফলের মধ্যে রয়েছে সমৃদ্ধ ভিটামিন। টক জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ভিটামিনের চাহিদা পুরণে মানুষ বাসাবাড়িতে আপেল, আঙ্গুর, মুচম্বী বা মাল্টা, কমলা, ডালিম ও ড্রাগন ফল খেয়ে থাকেন। গ্রামীণ এবং শহুরে এলাকার মানুষ শখ করেও এই ফল খেয়ে থাকেন। রোগীকে দেখতে বা আত্মীয় স্বজনদের বাসা বাড়ীতে বেড়াতে গেলে নাস্তা হিসেবে লোকজন নিয়ে থাকেন এসব ফল। তাই এই ফলের চাহিদা এবং কদর সবখানে অনেক অনেক বেশী। টেকনাফসহ জেলার বিভিন্ন বাজারঘুরে দেখা গেছে, মাল্টা (মুচম্বী) বিক্রি হচ্ছে কেজি ৬০০ টাকায়, এক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল ৩২০-৩৫০টাকা। আপেল বিক্রি হচ্ছে ৪০০টাকা, অথচ এক সপ্তাহ আগে আপেলের মুল্য ছিলো ৩০০টাকা। কমলা বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকায়, দুয়েকদিন আগে এই কমলার দাম ছিল ৩৫০টাকা। সাদা আঙ্গুর বিক্রি হচ্ছে ৫৫০টাকায়, গত সপ্তাহে এই আঙ্গুরের দাম ছিল ৪০০টাকা। লাল আঙ্গুর বিক্রি হচ্ছে ৬০০টাকায় কয়েকদিন আগেও লাল প্রজাতির আঙ্গুরের মুল্য ছিল ৪০০টাকা। ডালিম বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০টাকায়, গত সপ্তাহে ডালিমের দাম ছিলো ৪০০টাকা। ড্রাগন বিক্রি হচ্ছে ২০০টাকায়, মাত্র তিন দিন আগেও উক্ত ফলের দাম ছিল ১২০টাকা। এছাড়া বাজারে তরমুজ, জাম্বুরা, আমসহ মৌসুমী ফলও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। লোকজনের অভিযোগ ফলের বাজার নিয়ন্ত্রণে কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছেনা। তারা ফলের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মটিটরিংয়ের দাবী জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের আড়তৎদারের প্রেরিত ক্যাশ মেমো দেখিয়ে চরম ক্ষোভ এবং দু:খ নিয়ে সোনা মিয়া নামের হ্নীলার ফল বিক্রেতা জানান, গত দুই যুগ ধরে হ্নীলা ষ্টেশনে তিনি ফল বিক্রি করছেন ঠিক। এমন দামে আগে কখনো ফল বিক্রি করেননি তিনি। সিন্ডিকেটের কারণে ফলের দাম এমন বেড়েছে বলে এই ফল বিক্রেতা দাবী করেন। হামিদ হোছন নামের অপর এক ফল বিক্রেতা জানিয়েছেন, ভ্যাট ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধিতে ফলের দামও সমান তালে বেড়েছে। তবে এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি অতীতে হয়নি দাবী করেন এই ফল বিক্রেতা। এদিকে ফল বিক্রেতা জামাল হোছন জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের আড়ৎদাররা সিন্ডিকেট করে ফলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের সিন্ডিকেট ব্যবসার কারণে মাঠ পর্যায়েও ফলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিয়মিত ফল কিনেন হ্নীলা বাজারের মাহমুদ এন্টারপ্রাইজের এমডি মো: আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ফল সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে বলে তিনি মনে করেন। হোয়াইক্যংয়ের মো: ফারুক আজম জানান, অসুস্থ মা বাবা এবং পরিবারের জন্য বাজারে কমলা কিনতে গিয়েছিলাম। অতিরিক্ত দাম শুনে না কিনেই চলে আসলাম। গত সপ্তাহেও এমন দাম ছিলনা জানিয়ে তিনি ফলের দাম বৃদ্ধির কারণটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। প্রতিদিন আপেলসহ ফল ক্রয় করেন টেকনাফের হ্নীলা বাজার ডিষ্ট্রিবিউটর মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ¦ মোহাম্মদ রফিক। রোগী দেখতে ও বাড়ীতে আথিতেয়তা প্রদানে প্রতিনিয়ত বাজার থেকে ফল ক্রয়ের প্রয়োজন পড়ে। যেভাবে দাম বাড়ছে এভাবে চলতে থাকলে এই ফল সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে জানিয়ে তিনি ফলের দাম বৃদ্ধিতে জড়িত সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন। হ্নীলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাহাদুর শাহ তপু জানান,বিভিন্ন অজুহাতে ফলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি খুবই দু:খজনক। ফল খুবই প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। শরীরের ভিটামিনের চাহিদা পুরণের পাশাপাশি বাসাবাড়ীতে আথিতেয়তা প্রদানে এবং রোগী দর্শনে উল্লেখিত ফলের গুরুত্ব-প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশী। ফলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার দাবী জানিয়েছেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: শফিউল আলম, বিদেশী ফল বর্জন করে দেশীয় ফলের চাষাবাদে এগিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আস্তে আস্তে বিদেশী ফলের নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ফলে নির্ভরতা বাড়ানোর কথা জানান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির জানান,পরিত্যক্ত পাহাড়ে বিভিন্ন ধরনের ফল চাষ করা যেতে পারে। তিনি এখানকার পাহাড় মাল্টাসহ বিভিন্ন ফল চাষে উপযোগী জানিয়ে দেশীয় ফল উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন। পরিত্যক্ত পাহাড়ীয় জমিতে ফল চাষ বিনিয়োগ করলে অপার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা। টেকনাফসহ জেলার প্রান্তীক জনগোষ্ঠীর দাবী সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানীকৃত বিদেশী ফলের অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধির কারণে আপেল, কমলা, মাল্টা, আঙ্গুর, ডালিমসহ প্রয়োজনীয় ফল সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে তারা বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ফলের দাম বৃদ্ধিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।

পাঠকের মতামত

লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে কক্সবাজারের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল

কক্সবাজারে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। জেলার তালিকাভুক্ত ১৮০টি ...

পালংখালীর ১নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদে সিরাজের প্রার্থিতা ঘোষণা, দোয়া ও সমর্থন কামনা

কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা উখিয়া উপজেলার ৫নং পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং (কাস্টমস) ওয়ার্ড থেকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ...

অষ্টাদশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় সিভিল জজ হলেন উখিয়ার রিদুয়ান

অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ...